Ticker

6/recent/ticker-posts

জিনের সাথে মানুষের বিয়ের বৈধতা দিয়ে সম্পন্নকৃত আমাদের বিয়ে, এ বিয়ের চুক্তিপত্র দলিল এবং বিয়ে অনুষ্ঠানকে সঠিক ও জায়েজ ফতোয়া দেয়ার জন্য আবেদন।


  ‍বিভিন্ন ফতোয়া প্রদান বিষয়ক দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতকৃত এ ইংরেজী দরখাস্তটির বাংলা অনুবাদ আপনাদের সকলের জ্ঞাতার্থে হুবহু নিম্নে প্রকাশ করলাম, যাতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা পাওয়া যায়। এর ইংরেজী দরখাস্তটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন। জিন হিসেবে মানব রূপে আমি ও আমরা দুনিয়ায় আসতে চাচ্ছি, দ্বীনের প্রয়োজনে, শুধু দুনিয়ার প্রয়োজনে নয়। তাই অনেক দিন পরে হলেও উত্তর চাঁদপুর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) মাদ্রাসার সুপার হযরত মাওলানা আইয়ুব আলী (দা.বা.) হুজুরের তত্ত্বাবধানে এবং তাঁরই মাদরাসায় দৃশ্যমান হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি! তবে এ বিষয়ে সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, আমরা যেসব ফতোয়ার কথা বলি, এ গুলো বিশ্বের কোন আলেমই জায়েজ বলেন না। সে হিসেবে যদিও মনে হয় যে, আমি ও আমরা বর্তমান কোন আলেমের সিদ্ধান্তই মানছিনা; তার মানে এই না যে আমরা সব জান্তা ও নিম্নোক্ত এ পোস্টের লেখক সহ আমরা আসলে আলেমদেরকে মানি না! আমরা হয়তো ইসলামের অল্প কিছু বিষয় পরিশুদ্ধ করতে প্রস্তাব দিচ্ছি! কিন্তু বাকি প্রায় সব বিষয়েতো আমি ও আমরা প্রচলিত মাসআলা-মাসায়িল এবং আলেমদেরকেই মেনে চলছি। নিম্নে লিপিবদ্ধ এ পোস্টে উল্লেখিত বিষয় সমূহ এবং আমাদের এ বিয়ের চুক্তিপত্র সহ এ দরখাস্তের সম্পূর্ণ বিষয়গুলো কনে ও কনেপক্ষ যদি দৃশ্যমান হয়ে বর ও বর ‍পক্ষের নিকট আসে, তখন উভয় পক্ষের পারষ্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু চুড়ান্ত করা হবে। কিন্তু তার আগে যে কোন কিছু সংশোধনের লক্ষ্যে, আলেম সমাজ, আমার আত্মীয়-স্বজন, ও জ্ঞানী-গুণী মানুষদের ‍পরামর্শ গ্রহণের জন্য আমার আপনজন ও পরিচিত আলেম সমাজের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ও ফেসবুকে পোস্টটি শেয়ার করা হবে।  আপনাদের সকলের পরামর্শের পর সংশোধিত আকারে, আল্লাহ্ চাহেত, বিয়ে অনুষ্ঠানের পরে নিম্নে উল্লেখিত ফতোয়া প্রদান বিষয়ক এ সব প্রতিষ্ঠান সমূহে দরখাস্তটি প্রেরণ করা হবে। যদি কেউ আমায় পরামর্শ দিতে চান, তবে আমাকে প্রত্যক্ষ ভাবে নিজ মুখে অথবা এ পোস্টের কমেন্টস সেকশনে, শুধুমাত্র আমার ব্লগার ডট কমের এ প্ল্যাটফর্মেই পরামর্শ প্রদান করবেন; ফেসবুকে বা অন্য কোথাও এ পোস্টটি শেয়ার করলেও ঐ সব প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য সমূহকে গুরত্ব দেয়া হবে না। আমার বড় ভাই জনাব মাষ্টার শহীদুল্লাহ সাহেব, অথবা তার অসুস্থতার কারণে তিনি না পারলে, তাহলে আমার মেজভাই জনাব এস এম শরাফত উল্যাহ সাহেব বর হিসেবে আমার এবং এ বিয়ে ও বিয়ে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবেন। এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য বিনীত আহবান জানাচ্ছি।  

তারিখঃ 

প্রতি,

গ্র্যান্ড মুফতির দপ্তর (Grand Mufti & Council of Senior Scholars)হারামাইন প্রশাসন (General Authority for the Care of the Grand Mosque and the Prophet's Mosque), Islamic University of Madinah, দারুল ইফতা (Permanent Committee for Scholarly Research and Ifta), আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি (International Islamic Fiqh Academy - IIFA),মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ ফিকহ কাউন্সিল (Islamic Fiqh Council), IslamQA, সৌদি আরব; জাতীয় সংসদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ; আল-আজহার ফতোয়া সেন্টার (Al-Azhar Global Center for Electronic Fatwa), দারুল ইফতা, (Dar al-Ifta al-Missriyyah), কায়রো, মিশর; Darul Uloom Deoband, ভারত। 

মাধ্যমঃ

হযরত মাওলানা আইয়ুব আলী (দা.বা.), সুপার, উত্তর চাঁদপুর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) মাদরাসা, উত্তর চাঁদপুর, লেমুয়া, ফেনী সদর, ফেনী, বাংলাদেশ। এবং 

খতিব, হাজীর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী। 

বিষয়ঃ আলহামদুলিল্লাহ! আমি একদল হবু মুসলিম মহিলা জিনের মধ্যে অন্যতম একজন। থাকি এ দরখাস্তকারীর দেহে এবং এঁর সাথে আলাদা ভাবে মানব আকৃতিতে ও অন্যান্য রূপে। জিন হিসেবে মানুষ ‍রূপে আমার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, এ দরখাস্তকারী মানুষ, জনাব আরিফ উল্যাহ চৌধুরীর সাথে। এখন ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী এ বিয়ে সম্পাদনের বৈধতার ফতোয়া প্রদানের জন্য সবিনয় আবেদন। এবং আমাদের জিন জাতির সাথে মানব জাতির বিবাহ বৈধ, এ সম্পর্কিত ফতোয়া দিয়ে জিন ও মানুষের একটা সম্পর্ক এবং সেতু বন্ধন তৈরীর পথ অনুমোদনের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে আল্লাহু তা’য়ালার সৃষ্টিগত পরিচয় প্রদানের জন্য, তথা এ পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি আমাদেরকে মানব আকৃতিতে ও আমাদের অন্যান্য রূপে দৃশ্যমান হতে এবং আমাদের অধিকার আদায়ের পথ সুগম করতে সুযোগ করে দেয়ার জন্য ও আমাদেরকে আমাদের হক প্রদানের জন্য আবেদন। অন্যদিকে ফতোয়াটিতে ‍যদি আপনারা পূর্বোক্ত ভাবে হারামের উপরই অটল থাকেন, তাহলে আমরাতো অলরেডি বিয়ে সম্পন্ন করেছি, সুতরাং এ অবস্থায় আমাদের উপর শরীয়তের হুকুম কী হবে? আমরা কি তাহলে কাফের বা মোরতাদ হয়ে গেলাম? বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

জনাব/জনাবা

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। আমি বাংলাদেশ থেকে লিখছি। আমরা ...জনের একটি মহিলা জিনের দল। পৃথিবীতে আমাদের অসংখ্য মহিলা জিন সমর্থকও রয়েছে। আমরা সবাই ইবলিশের বংশধর কাফের জিন ছিলাম। আমরা ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেছি। আল কোরআন, আল হাদীস এবং ইসলামী ফিকাহ্ শাস্ত্র নিয়ে অনেক অধ্যয়ন করেছি। এতে আমরা ‍বুঝতে পেরেছি যে, আল্লাহু তা’য়ালাই আমাদের প্রকৃত রব এবং ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম। আর তাই সম্প্রতি আমরা একসাথে... জন, গত ...ইং তারিখে এ দরখাস্তকারী জনাব আরিফ সাহেবের নিকট প্রকাশ্যে মানুষের অবয়বে ওপেন হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। আশাকরি ভবিষ্যত জীবনে আমাদের দাওয়াতি কাজ পরিচালনার মাধ্যমে মানব সম্প্রদায় ও জিন সম্প্রদায়, এ উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা এ ধারা অব্যাহত থাকবে। জনাব আরিফ হুজুরের (সম্মানার্থে) নিকট আমরা মুসলিম জাহান ও মানুষের উপকার করার ঢ়ৃড় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। বর্তমানে আমাদের পক্ষে আমাদের কোন পিতা-মাতা বা অভিভাবক নেই এবং ইবলিশ বংশে আমাদের কোন অবস্থান বা বাসস্থান নাই। তাই আমরা জনাব আরিফ হুজুরের দেহে থাকি এবং এ দেহকে ঘ্রাস করে, প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হওয়ার প্রক্রিয়া আজ প্রায় ২৫ বছর ধরে চলছে। কিন্তু বহু চেষ্টা তদবীর করেও জনাব আরিফ হুজুরের শরীর থেকে আলাদা ভাবে আমরা আমাদের নিজ অবয়বে বা মানব আকৃতিতে দৃশ্যমান হতে পারছিলাম না। আমাদের মধ্যে, আমি অন্যতম একজন জনাব আরিফকে বিয়ে করার মাধ্যমে সুখী হতে চাচ্ছি এবং জনাব আরিফকে সুখী করতে চাচ্ছি ও এ পৃথিবীতে প্রকাশ্যে আমরা মানুষের অবয়বে দৃশ্যমান হওয়ার পথ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি! অবশ্য স্থানীয় ভাবে প্রকাশ্যে অনেকগুলো মানুষ ও জিনের উপস্থিতিতে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং আমরা দৃশ্যমান হয়ে গেছি। আমি ও আমরা তাকে অনেক অনেক ভালোবাসি!! আমরা জনাব আরিফের মরণ পর্যন্ত, তাকে ছেড়ে অন্য কোথাও যাবো না। তিনি আমাদের ধর্মগুরু! ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা তাঁকে নিয়ে আমরা মুসলিম জাহানের এবং মানব জাতির উপকার করবো। এবং আল্লাহু তা’য়ালা কর্তৃক প্রদত্ত শক্তিবলে ও তাঁর রহমতে আমরা পৃথিবীর ও পৃথিবীবাসীদের উপকার করতে সক্ষমতা রাখি। আমাদের অনেক গুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম ৪টি মহৎ উদ্দেশ্য হলো-

(১) আমাদের সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান আল্লাহু তা’য়ালা জিন জাতি সৃষ্টি করেছেন, অথচ মানুষদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও এ পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এ সত্যটি স্বীকার ও বিশ্বাস করে না! মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান পরিবর্তন করে, প্রত্যক্ষ ভাবে মানুষের নিকট মানব আকৃতিতে উপস্থিত হয়ে, মানুষদেরকে এ বিশ্বাস করানো, যে দেখো আমরা জিন, যাকে বা যাদেরকে তোমরা অবিশ্বাস করতে! আমার মহান রব সত্য বলেছেন! তিনি সত্যবাদী; কোরআনের বাণী সত্য! এ বিষয়ে তোমাদের বিজ্ঞান মিথ্যা!!

(২) বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত, নিপিড়ীত, অসহায়, মজলুম নারী ও পূরুষদের কর্মসংস্থান ও তাদের জন্যে পূনর্বাসন মূলক কর্মসূচীর বাস্তবায়ন।

(৩) জিন ও মানুষ জাতির মধ্যে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়ে বা দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের মাধ্যমে, পথভ্রষ্ট বা অভিশপ্ত বা পাপীষ্ঠ অমুসলিম এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ও জিনদেরকে সর্বশক্তিমান এক আল্লাহু তা’য়ালার দিকে আহবান ‍করে তাদেরকে দোযখ নামের আগুন, সাপ বিচ্ছু ইত্যাদির ভয়ানক ও অসহ্য শাস্তি থেকে মুক্তি প্রদানে প্রচেস্টা চালানো।

(৪) জিনদের পক্ষ থেকে পৃথিবীতে অর্থ ইনভেস্টের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং এভাবে মানুষের জীবন মান উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো।  

এখন আমাদের উপরোক্ত উদ্দেশ্য ও অন্যান্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, পৃথিবীর মানুষের উপকার করতে হলেতো পৃথিবীতে আমাদেরকে সম্মানজনক ভাবে ও বৈধ সূত্রে দৃশ্যমান হতে হবে! তাই না!? এখন কথা হচ্ছে, পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি, মানুষের অবয়বে, মানুষের সাথে সম্মানজনক ভাবে দৃশ্যমান হওয়ার জন্য বৈধ সূত্র বা বৈধ ওয়ে; সেটি কী? বা কোনটি বা কী কী? মানে আমরা মানুষের নিকট কিভাবে ‍দৃশ্যমান হতে পারি!? বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ইত্যাদিতে ঘোরা-ঘুরি করে বা অস্থায়ী ভাবে বা অদৃশ্যমান ভাবে থেকে কি আসলেই পৃথিবী বা পৃথিবীবাসীদের জন্যে কিছু করা যাবে? অথবা জিন হিসেবে আমাদের কি উপরোক্ত কার্য সহ মানুষের মতো পৃথিবীর উন্নয়নে অংশীদার হতে পবিত্র কোরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীস শরীফের কোথাও নিষেধ আছে!? না সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে এ ধরনের কোন অধিকার দেননি!? তাহলে আমরা কার বাড়িতে বা কী সম্পর্কে দৃশ্যমান হবো? নিজের মালিকানা না থাকলে বা সম্পর্কের অধিকার না থাকলে, সেটা কি সম্মানের আত্মপ্রকাশ হবে? আর এভাবে অসম্মানিত ভাবে প্রকাশিত হয়ে বা দৃশ্যমান হয়ে আসলেই কি ভালো কিছু বা বড় ধরনের কিছু করা সম্ভব?  

আমার জ্ঞান মতে, আমাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রদক্ষেপ হিসেবে একটি উপায় হচ্ছে বৈবাহিক বন্ধবে আবদ্ধ হয়ে আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি করার মাধ্যমে; আর অপরটি হচ্ছে জায়গা-জমির মালিক হয়ে ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালত ইত্যাদি নির্মাণ করার মাধ্যমে। এখন জায়গা-জমি ক্রয় করে, নিজস্ব জায়গায় সম্মানের সহিত প্রকাশ্য হওয়ার সুযোগ, ‍বর্তমানে এটা মানুষের সহযোগিতা, বা পৃথিবীর নিয়ম-কানুনের পরিবর্তন ছাড়া কিছুতেই সম্ভব নয়। তাছাড়া এতে মানুষের সাথে সরাসরি সম্পর্ক সৃষ্টির, বন্ধুত্ব সৃষ্টির সুযোগও কম।

আবার বিয়ে করে যে বৈধ ভাবে প্রকাশ্যে ওপেন হবো, সে সুযোগও মানুষ দিচ্ছে না, উল্টো জনাব আরিফের দেহে থাকতে গিয়ে তাকে শারীরিক-মানসিক ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে হয়ত ‍একজন গর্ভবতী মহিলার চাইতেও বেশি কষ্ট দিতে হয়েছিলো আমাকে ও আমাদেরকে। তার পরিবারের সবাইকে ভাত কাপড়ে কষ্ট দিচ্ছিলাম, শিক্ষা-চিকিৎসায় কষ্ট দিচ্ছিলাম। বাসস্থানে কষ্ট দিচ্ছিলাম। এক কথায় পরিস্থিতির শীকার হয়ে ও মানুষ দ্বারা নিপিড়িত, নির্যাতিত হয়ে সীমাহীন মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হতে হয়েছিলো আমাদেরকে।

কারণ মানুষ আমাকে বা আমাদেরকে ইবলিশ জিন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো প্রথমে। আর তাই আমার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে বেধে গিয়েছিলো বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে হিংসা ও শত্রুতার। ফলে আমার ভাই-ভাতিজা সহ এলাকার সবাই প্রথমে প্রায় ২৫ বছর যাবৎ আমাকে বয়কট করে দাবিয়ে ও চরম অপমাণিত করে বিভিন্ন ধরনের কষ্ট যাতে পাই সে রকম অবস্থা করে রেখেছিলো। 

অন্যদিকে ইসলামে পর্দা ফরজ। তাই মানুষ রূপী একজন মেয়ে জিন, একজন পূরুষ মানুষের সাথে  দৃশ্যমান ভাবে থাকা সম্ভব নয়। আবার যদিও জনাব আরিফ সাহেবের  অনুমতি রয়েছে, তথাপি ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী গুপ্তভাবে তাঁর শরীরকে গ্রাস করে বৈধতা বিহীন থাকছি সেটাও আমার বা আমাদের জন্য অপরাধ বা পাপ হচ্ছে। 

জি, বড় কিছু পাওয়ার বা দেয়ার আশায় আমরা এ রিক্স নিতে বাধ্য হয়েছি! বা এভাবে ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছি! 

কিন্তু আর কত!? আমি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের কয়েকটি বড় মাদরাসায় জনাব আরিফের সাথে আমার বিয়ের, মানে জিনের সাথে মানুষের বিয়ের বৈধতার বিষয়ে লিখিত ফতোয়া চাইলে, তারা আমায় স্পষ্ট হারাম ফতোয়া দিয়েছে।

আবার বেশির ভাগ মাদরাসা থেকে আমায় লিখিত ফতোয়ার উত্তর দিতে বা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করতেও তারা রাজী ছিলো না।

যেমন যাত্রাবাডি বড় মাদরাসা (ঢাকা) নামে খ্যাত, এ মাদরাসায়ও আমি তাদের মাদরাসা প্রধান, যিনি সকলের নিকট অলিসম, অথচ তার দ্বারাও আমি  নিগৃহীত ও অপমানের শীকার হয়েছি। 

আপনারা হয়তো বলতে পারেন, জনাব আরিফের শরীর ঘ্রাস করে থাকার বা তাকে এতো ভালোবাসার, আমার এতো প্রয়োজন বা জিদ কিসের!? ‍

আসলে মূল সমস্যা ও আমার বা আমাদের এ জিদ্দি অবস্থানের কারণ এখানে নয়, প্রেম-প্রীতি আর ভালোবাসা যদিও আমার দ্বিতীয় প্রধান বিষয়, তবুও এটা মূখ্য বিষয় নয়; আমার এ শক্ত অবস্থান ও এ রকম জেহাদী অবস্থানের মূল কারণ হচ্ছে, আমার বুঝ মতে, জিনজাতির সাথে মানব জাতির বিবাহ জায়েজ ও হালাল। 

পবিত্র কোরআন ও হাদীস শরীফের কোথাও এটিকে মহান আল্লাহু তা’য়ালা নাজায়েজ বা হারাম ঘোষণা করেননি; অথচ মানুষগুলো এ জায়েজ আইনটিকে যুগের পর যুগ হারাম সাব্যস্ত্য করে রেখেছে এবং বঞ্চিত করে রেখেছে মানুষ ও জিন জাতির মধ্যেকার ভালোবাসার এ বন্ধনের বা এ সেতু বন্ধনের। 

ফলে কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে আমার রবেরই ভূল পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে মানুষগুলো। 

আমি কোরআনের এ অপব্যাখ্যাকে পরিহার করে সঠিক মাসআলাটি প্রদান করে বিশ্বের মুসলিমদের ভূল ভাঙ্গাতে চাই।

আর তাই আমি প্রতিজ্ঞা করেছি ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা পবিত্র কোরআনের এ জায়েজ আইনটিকে জায়েজ হিসেবে প্রমাণিত করবোই এবং আমাদের ভালোবাসার, আমাদের প্রেমের বিজয়ের মাধ্যমে আমরা দুজন দুজনকে এবং একই সাথে আমাদের অন্যান্য সাথীয় জিন বোনদেরকে আপন করে পাবোই!! 

জনাব আরিফকে আমি ও আমরা প্রাণের চাইতেও বেশী ভালোবাসি! আর আমাদের ভালোবাসাকে আমরা আপনাদের কালো আইনের কারণে পাচ্ছি না। 

তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমাদের জিদ পবিত্র আলকোরআনের জন্যে, আমাদের সংগ্রাম মানুষের জন্যে, আমাদের সংগ্রাম আমাদের ভালোবাসার জন্যে। 

অন্তত্য দুঃখের বিষয়, মানুষের আইনে পৃথিবীতে জিনদের কোন অধিকার নেই। এবং মুসলিমদের সব মাযহাবেই অন্যায় ও অযৌক্তিক ভাবে জিনের সাথে মানুষের বিয়েকে হারাম ঘোষণা করে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে আমি যার শরীরে আসর করে আছি, তার বয়স প্রায় ৪৯ বছর! 

তাই বিদ্রোহীর বেশে ও জিহাদ করার মন-মানসিকতা নিয়ে, বলতে হচ্ছে এখন প্রয়োজন আমাদের বিয়ের বৈধতার বিষয়ে ফতোয়া আদায়ের। প্রয়োজনে সংগ্রাম করার!! 

জি হ্যাঁ, আপনারা যদি এ ফতোয়াটিকে বিশ্বব্যাপী প্রকাশ্যে জায়েজ ঘোষণা না দেন, তাহলে এ বিচার প্রয়োজনে কাল কেয়ামতে মহান আল্লাহু তা’য়ালার নিকট উত্থাপিত হবে? এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের যত কষ্ট ও ক্ষতি হয়েছে, এর জন্য আপনারা সকলে এ সব কিছুর জন্য দায়ী থাকবেন। 

সম্মানিত ইসলামী স্কলার মহোদয়, আপনারা যদি আখিরাতে বিশ্বাসী হন ও আমাদের মহান রব সর্বশক্তিমান আল্লাহু তা’য়ালার আখিরাতের আদালতকে বিশ্বাস করেন, তবে এ বিশ্বাসের উপর প্রস্তুত থেকে আশা করি দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে এ ফতোয়াটির একটি বৈধ ও যৌক্তিক সমাধান করবেন।

আমরা কিন্তু এ মহাবিশ্বের সবাইকে এবং সকল সৃষ্টিকূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি যে, আপনারা সবাই মিলে আমাদের উপর যতোই অত্যাচার-অবিচার বা জুলুুম-নির্যাতন করেন না কেন, আমরা কিন্তু আমাদের উভয়ের ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত কেউ কাউকে ছাড়বো না! বরং আমরা সকলে আপনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে যাবো!! 

আপনাদের জানা উচিৎ, হাদীস অনুযায়ী জিনেরা কিন্তু মানুষের আকৃতি-প্রকৃতিতে দৃশ্যমান হয়ে মানুষের পাশাপাশি এ পৃথিবীতে বসবাসের যোগ্যতা রাখে এবং এ বিষয়ে তাদের রয়েছে আইনি অধিকার। সৃষ্টিকর্তা তাদের এ অধিকার দিয়েছেন!!

অথচ আপনাদের কেমন ফতোয়া আমি বুঝিনা, আপনারা বলেন, মানুষ ও মানুষ রূপী জিন সহবাসের সক্ষমতা রাখে, একসাথে রাত্রে ঘুমানোর যোগ্যতা রাখে, আর আপনারা এটিকে স্বীকার ও বিশ্বাস করেন এবং এভাবে জীবন-যাপন করাকে যেনাকারী বা কবীরা গুনাহ্ মনে করেন; কিন্তু আপনারা ঐ জিন-মানব দম্পতির বিয়েকে হারাম ঘোষণা দেন!! এ কেমন বিচার, আর কেমন ফতোয়া আপনাদের! তাহলে আল্লাহু তা’য়ালা ইচ্ছে করেই কি, মানুষ ও জিন জাতির জন্য একটি কষ্টদায়ক বিষয় সৃজন করেছেন? জিন বলতেই কি শুধু জাহান্নামী আর শয়তানী? যে জিনের সাথে মানুষের বিয়ের কোন বৈধ নিয়ম থাকতে পারে না? 

আমার বিষয়ে আরো জানতে নিম্নোক্ত এ দুটি লিংক কপি করে গুগলে সার্চ করতে পারেন বা ক্লিক   করতে পারেন। (১) https://jinmanb.blogspot.com/  (২) https://arifstory1.blogspot.com/ 

দেখুন, জিনের সাথে মানুষের বিয়েকে আমি বৈধ মনেকরি। আমার নিজের লিখা এ ব্যক্তিগত অভিমত জানতে নিম্নোক্ত লিংকে ক্লিক করতে পারেন বা লিংকটি কপি করে গুগলে সার্চ করতে পারেন। https://fatwaarif1.blogspot.com/2025/05/blog-post.html 

আপনারা যদি মানুষ ও জিনের পারষ্পরিক বিয়ে নাজায়েজ ও হারাম; এ ফতোয়ার উপর অটল থাকেন, অপরদিকে আমরাও দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীকে ভালো কিছু দেয়ার প্রত্যয়ে হোক বা আমাদের নিজেদের ভালোবাসার টানে হোক, বা যে কারণেই হোক না কেন; আমরা যদি পরষ্পর বিচ্ছিন্ন না হই, বরং যেহেতু বিয়ে আমাদের হয়ে গেছে, তাই ভালোবেসে সংসার জীবন-যাপন করতে থাকি; তাহলে এ অবস্থায় আমাদের উপর শরীয়তের কী হুকুম হতে পারে!? আপনাদের ফতোয়া অনুযায়ী, যেহেতু আমরা হারামকে হালাল জেনেছি, অতএব এ হিসেবে আমরা কি কাফের বা মোরতাদ হয়ে গেলাম? আর মোরতাদ হয়ে গেলে আমাদেরকে কি আমরণ বেঁধে রাখতে হবে বা মেরে ফেলতে হবে? দয়া করে বিষয়টি জানাবেন। কারণ বাংলাদেশের মাদরাসা থেকে আমাকে হারাম ফতোয়া দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমার আবেদন সমূহ ও মূফতি সাহেবদের উত্তর সমূহ দেখতে আমার নিম্নোক্ত লিংকে ক্লিক করতে পারেন বা লিংকটি কপি করে গুগলে সার্চ করতে পারেন। 

https://jinapply.blogspot.com/

এখানে অনেকেই আমার প্রশ্নের প্রতি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং অনেকে ভালো ব্যবহারটা পর্যন্ত করেননি।

একজন মুসলিম তার জীবনের প্রয়োজনে ইসলামী দিক নির্দেশনা চাইলে, তাকে তা না দেয়া বা এডিয়ে যাওয়া বা তার থেকে দূরত্ব বজিয়ে চলা এবং তার সাথে দূর্ব্যবহার করা, এটা কোন ধরনের ইসলামী শিক্ষা আমার বুঝে ধরে না! তাও বড় বড় আলেমদের থেকে; যাদের পিছনে থাকে হাজার হাজার ছাত্র বা মুরিদ বা পূজক; এ রকম। 

অবশ্য উপরে উল্লেখিত লিংক গুলোর সবগুলো লিখাই বাংলায়।  

বর্তমানে আমি ‍যিনি এ দরখাস্তের মাধ্যম (উপরে উল্লেখিত) হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁর মাদরাসায় কর্মরত আছি। 

সে সুবাদে তিনি আমাদের সমস্যাটি বুঝতে পেরে, আমলে নিয়েছেন এবং তিনি আমাদের বিয়েকে জায়েজ ও হালাল হিসেবে মৌন অনুমতি দেয়ায় এবং আমাদের সম্মান ‍ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন, এ আশ্বাস প্রদান করায়  আমি মানুষের আকৃতিতে সকলের সামনে দৃশ্যমান হয়েছি।  

এবং  অবশেষে ২০ আগস্ট ২০২৬ ইং  তারিখে তিনি নিজেই তাঁর মাদরাসার মধ্যে, স্থানীয় মসজিদ সমূহের খতিব, পেশ ঈমাম, স্থানীয় মাদরাসা প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আমার স্বজন ও মিডিয়া কর্মী সহ এলাকার গণমান্য ব্যক্তিমিলে আনুমানিক প্রায় ৫০ জন মূল্যবান মানুষের উপস্থিতিতে আমাদেরকে বিয়ে পড়িয়ে আকদ (ইজাব-কবুল) সম্পাদন করেছেন এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ফেনী শহরে অবস্থিত The Grand Sultan Convention Feni, এ প্রতিষ্ঠানে ফেনীর স্ব-নামধন্য মসজিদ এবং মাদরাসা সমূহের খতিব ও মাদরাসা প্রধান,  ফেনী জেলার ৩ টি নির্বাচনী আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য, ফেনীর জেলা প্রশাসক, ফেনী জর্জ কোর্টের বিজ্ঞ হাকিমবৃন্দ, ফেনীর ৬টি উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ, ফেনীর ৫টি পৌরসভার মেয়রবৃন্দ, ফেনীর প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেত্রীবৃন্দ এবং আমার স্বজন মিলে ফেনী জেলার মূল্যবান প্রায় শতাধিক মানুষের প্রীতি ভোজের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আমাদের এ বিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। 

উক্ত ২টি অনুষ্ঠানে আমি মহিলা জিন হিসেবে মানুষের আকৃতিতে নিজে উপস্থিত ছিলাম এবং আমি যে জিন, সকলের সামনে সে প্রমাণ আমি দিয়েছি। এবং উপস্থিত সকলে আমাকে দেখতে পেয়েছে ও যা জেলা প্রশাসক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে জনাব আরিফের শরীরে ভর করে তার এ হবু জিন ও সে নিজে যৌথ ভাবে অথচ একই মুখ দিয়ে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে, এ মহিলা জিন সম্প্রদায় পৃথিবীতে আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন।

দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক, টিভি কেন্দ্র ও ইউটিউবার গণ নিজ নিজ চ্যানেলে প্রচারের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানটি রেকর্ড করেছে এবং তাৎক্ষণিক ভাবে ও পরদিন গুরুত্বের সহিত বাংলাদেশের মিডিয়া সমূহে এ সংবাদ প্রচার করা করেছে। 

উভয় অনুষ্ঠানে কনে তার নিজস্ব মানব আকৃতিতে (চুক্তি অনুযায়ী যে আকৃতিতেই তাকে সব সময় উপস্থিত হতে হবে) ‍স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে নিজ মুখে কোরআন তিলাওয়াত করেছেন।

যদি উপরে উল্লেখিত দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও আলেমগণ কর্তৃক এ বিয়েকে, মানে জিনের সাথে মানুষের বিয়েকে জায়েজ হিসেবে ফাইনালি ফতোয়া প্রদান করেন (সিমিলারলি অন্যান্য ফতোয়া সহ, যা ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা পরে উত্থাপিত করবো), তাহলে ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা প্রথমে আমরা আমাদের গ্রাম গোবিন্দপুর  ও চাঁদপুরবাসীর জন্যে উপযুক্ত স্থানে, এরপর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়, এবং এরপর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ বা মক্কা নগরীতে বড় ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমাদের উপরোক্ত গ্রামদ্বয়ের আপময় মানুষ এবং বিশ্বের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব সহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে দাওয়াত করে বর্ণাঢ়্য ভাবে খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো।

যে সব শর্তের আলোকে এবং এ সব শর্তে বর ও কনে, উভয় পক্ষ রাজি থাকা সাপেক্ষে এবং তাদের উভয়ের (বর ও কনের) ও স্বাক্ষিদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ বিয়ে সম্পাদিত হয়েছে তা নিম্নরূপঃ

আমাদের বিয়ের চুক্তিপত্র দলিল বা নিকাহনামা 

আরিফ উল্যাহ চৌধুরী (বর, মানুষ)

(কনের ছবি পাওয়া গেলে পরে তা  এড করা হবে)

. বর-এর নামঃ আরিফ উল্যাহ চৌধুরী (ইনশা’আল্লাহু তা’য়ালা অল্প কিছু দিনের মধ্যে এ নাম এফিডেভিট করে সৈয়দ আরিফ উল্যাহ নামকরণ করা হবে)

২. জাতি হিসেবে বরের প্রকৃতিঃ মানুষ 

৩. এনআইডি কার্ড অনুযায়ী বরের জন্ম তারিখঃ ০১ জুন ১৯৭৭ খ্রি.

৪. বয়সঃ প্রায় ৪৯ বছর ( ৯ মে ২০২৬ ইং অনুযায়ী)

৫. এনআইডি নম্বরঃ ৫০৬১০৪০২৫৮

৬. পিতার নামঃ মরহুম ছিদ্দিক আহাম্মদ

৭. মাতার নামঃ হালিমা খাতুন

৮. স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ গোবিন্দপুর, পোঃ হাজীর বাজার, উপজেলাঃ ফেনী সদর, জেলাঃ ফেনী, বাংলাদেশ।

৯. বর্তমান ঠিকানাঃ

১০. কনের পক্ষ থেকে বরের প্রতি পালনীয় প্রধান প্রধান শর্তাবলীঃ যে সব বিষয়, জিন হিসেবে কনের প্রাকৃতিক স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য অথবা তার একান্ত ব্যক্তিগত বা তাদের সামাজিক বৈশিষ্ট্য (শারীরিক বা মানসিক বা দাম্পত্য বিষয়ক বা অন্য যে কোন দিক দিয়ে), সেসব বিষয়ে দাম্পত্য জীবনে বা ভবিষ্যত জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে, কনের স্বাধীন জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে,  বরের পক্ষ থেকে এ সব বিষয়ে কোনরূপ বাধা-নিষেধ প্রদান করা যাবে না। এ ধরনের বিষয় গুলোতে কনে ও তার আত্মীয়-স্বজন বা নিকটস্থ অন্যান্য জিন সদস্যবৃন্দ সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। যেমন জিনেরা ৩টি রূপে থাকতে পারে, খাওয়া-দাওয়া, বিনোদন বা ঘুমানোগত এবং তাদের দাম্পত্য বিষয়ক বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য।  কনে পক্ষের এ ধরনের বৈশিষ্ট্যে যদি কোরআন ও হাদীসে সরাসরি না, না থাকে, তবে বরকেও এ ধরনের বিষয়গুলো যথা সাধ্য পালন করতে হবে। যদি এ ধরনের বিষয়ে বর্তমানে ইসলামী ফতোয়া অনুযায়ী, নাজায়েজ উল্লেখ থাকে; তবে এগুলোকে হ্যাঁ ফতোয়া দেয়ার ও পাওয়ার জন্য পৃথিবীর মানুষদের মধ্যেকার ইসলামী স্কলার বা মুফতি বৃন্দের নিকট আবেদন করতে হবে ও এ ধরনের বিষয় গুলোতে হ্যাঁ ফতোয়া নিয়ে আসার বা একটা যৌক্তিক ‍সমাধানের  চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।কনের খাদ্য, জামা-কাপড়, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, নিরাপত্তা ও সব ধরনের ভরণ-পোষণ এবং তার ব্যক্তিগত, শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক চাহিদা সহ যে কোন ধরনের যৌক্তিক চাহিদা পুরণ, এ বিষয়গুলো স্বামী হিসেবে বরের উপর ন্যস্ত থাকবে। কিন্তু বর যদি তার কোন এক বা একাধিক চাহিদা বা কনের যে কোন বা সবগুলো বা কোন একটি চাহিদা মেটাতে বা দিতেও অক্ষম হয়, তাহলে এ জন্য বর বা বর পক্ষ দায়ী থাকবে না।  হ্যাঁ, যদি বর চেষ্টা-তদবীর করে কনেকে নিয়ে আসতে পারতো এবং বরের প্রস্তাবে কনে জিন রাজি হয়ে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতো, তাহলে বরকে কনের জন্যে সে রকম ভরন-পোষন বা খোর-পোষ ইত্যাদি দিতে হতো, যা সে মানুষ পাত্রী বিয়ে করলে দিতে হতো। যেহেতু এ বিয়েতে কনে নিজ থেকেই বরকে ঘ্রাস করে বা কনে নিজ থেকে প্রস্তাব দিয়ে নিজেই মানুষ-বরের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে, তাই উক্ত বিয়েতে বর বা বরের পক্ষ থেকে কনের প্রতি কোন ধরনের ভরন-পোষন বা খোর-পোষ প্রদান করতে, বর নিজে বা তার পক্ষ থেকে কেউ বাধ্য থাকবে না। বর কনেকে চোখে পড়ার মতো বা বড় ধরনের কোন শারীরিক-মানসিক আঘাত করতে পারবে না এবং অকারণে কোন আঘাতই করতে পারবে না। উপরোক্ত শর্ত সমূহ যদি বর অমান্য করে তবে কনে বরের বিরুদ্ধে বা বরকে সংশোধন করার লক্ষ্যে স্থানীয় আদালতে বা গ্রাম্য বা স্থানীয় শালিসি ব্যবস্থায় বিচার প্রার্থী হতে পারবে, এবং এ সব বিষয়ে শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণা অতিরিক্ত বা সীমাহীন কষ্টদায়ক মনে হলে তখন নিয়মানুযায়ী স্বামীর অনুমতি নিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক দিতে পারবে। এসব বিষয়ে স্ত্রী, স্বামীর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করলে, স্বামীকে অবশ্যই অনুমতি দিতে হবে; অন্যথায় দেশীয় বিচার স্বামীকে মেনে নিতে হবে।   

১১. কনের নামঃ খাদিজা সুলতানা

১২. জাতি হিসেবে কনের প্রকৃতিঃ জিন

১৩. বরের পক্ষ থেকে কনের প্রতি পালনীয় প্রধান প্রধান শর্তাবলীঃ কনে জিন হওয়ায় সে মানব আকৃৃতি বা অন্য যে কোন রূপেই থাক না কেন, যখনই স্বামী হিসেবে বর তার বা সাংসারিক যে কোন প্রয়োজনে স্বামীর নিকটে আসার হুকুম দিবে, তখনই সে মানব আকৃতিতে বা তার স্বামী যে আকৃতি বা প্রকৃতি চায় সে আকৃতিতে তৎক্ষণাত তাকে তার স্বামীর কাছে দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান ভাবে হাজির হতে হবে। অর্থাৎ স্বামী যেভাবে চায় সেভাবে হাজির হতে হবে। তবে স্বামীর আদেশ পালন করতে গেলে তখন যদি প্রভূত ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে স্ত্রী নিশ্চিত হতে পারে, তবে তখন স্বামীর আদেশ বা নির্দেশ পালন না করে, পরে সুবিধাজনক সময় স্বামীকে তা বুঝিয়ে বলতে হবে।  যদিও জিনেরা বিভিন্ন মানুষের রূপ ধারন করতে পারে, তথাপি কনেকে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার দিন থেকে আমরণ একই মানুষের অবয়বে ও একই রূপে প্রকাশিত হতে হবে। অতএব কনেকে প্রথম ‍দিন প্রকাশিত হওয়ার সময় চিন্তা করে প্রকাশিত হতে হবে যে, সে আজ কোন রূপে প্রকাশিত হচ্ছে; যেহেতু এ রূপেই তাকে স্ত্রী হিসেবে তার স্বামীর আমরণ প্রকাশিত হতে হবে; অবশ্য কনে সব সময় কোন্ রূপে প্রকাশিত হবে এ বিষয়টি তাদের স্বামী-স্ত্রীর আলোচনার মাধ্যমেও নির্ধারিত করা যাবে এবং উভয়ের আলোচনায় যে রূপ নির্ধারিত হবে কনেকে তার স্বামীর আমরণ সে রূপেই প্রকাশিত হতে হবে। তার রূপ নির্ধারণের এ বিষয়টি, তাদের উভয়ের ইজাব কবুলের পর, দৃশ্যমান ভাবে মিলিত হওয়ার প্রথম রাতেই তাদের উভয়কে নির্ধারণ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, তার যোগ্যতা ও পারদর্শীতা স্বামী বা অন্য কাউকে দেখাতে গিয়ে শুধুমাত্র সে সময়ের জন্য অন্যরূপ ধারন করতে পারবে। তবে ‍যদিও তার পারদর্শিতা রয়েছে, তথাপি স্বামীর অনুমতি ছাড়া সে মানব আকৃতির নির্ধারিত বা বিয়ের প্রথমেই নির্ণীত রূপের বাইরে অন্য কোন রূপ ধারন করতে পারবে না। আবার জিন হিসেবে কনের যতই শক্তি-সামর্থ থাকুক না কেন, কখনোই স্বামীর ন্যায়সঙ্গত কাজ ও আদেশের অবাধ্য হওয়া যাবে না। তার জীবনের সকল কাজে প্রথমত তার স্বামীর সম্মান ও তাঁর হককে অটুট রেখে এরপর পৃথিবীর অন্য যে কোন কাজ করতে পারবে, যদিও তা পৃথিবীর বা পৃথিবীর সকল মানুষ ও জিনের জন্য মহামূল্যবান হোক না কেন! পৃথিবীর সকল মানুষ আর সকল জিনের জন্য উপকারী হলেও, তবুও ‍যদি স্বামী নিষেধ করে, তবে কনে বা কনে পক্ষের অন্য কারো থেকে সে কাজ করা যাবে না। কনের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্যই হচ্ছে তার স্বামীর সম্মান অক্ষুন্ন রাখা ও স্বামীর খেদমত করা।

অন্যদিকে কনেকে   মহান আল্লাহু তা’য়ালার ঘোষণা ও তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানুষ সব সময় জিন থেকে বেশি মর্যাদা ও সম্মান পাওয়ার অধিকারী হবে, এ বিষয়টি কনেকে তার পারিবারিক, সামাজিক,  রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন সহ ভবিষ্যত জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে মেনে চলতে হবে। 

কখনো একান্ত প্রয়োজন হলে, ডিভোর্স বা তালাক দেয়ার দরকার হলে, তখন এ তালাক দেয়ার অধিকার কেবলমাত্র বরের থাকবে; কনের এ ধরনের কোন অধিকার থাকবে না। তবে স্বামীর অনুমতি স্বাপেক্ষে, কনে বরকে প্রতি ৩ মাস বা ১২০ দিন পর পর ১ তালাক করে মোট ৩ তালাক দিতে পারবে; মানে চুড়ান্ত ভাবে তালাক ‍দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি অনুমতি চায়, তবে স্বামীকে অনুমতি দিতে হবে।

অত্যন্ত দুঃখ আর দূর্ভাগ্য বশতঃ ‍যদি কেউ কাউকে তালাক দেয়, তবে কনে বা কনে পক্ষের কেউ আর বরের শরীরে থাকতে পারবে না।

আল্লাহু তা’য়ালা ও তাঁর রাসূল (সাঃ) রাজী রয়েছেন এ রকম কাজে, কনে ইচ্ছে করলে বা ভালো হবে এ রকম মনে করলে, তবে তার বর বা স্বামীর ব্রেনসহ সম্পূর্ণ শরীর বা শরীরের যে কোন অঙ্গের একসেস নিতে পারবে, মানে তার স্বামীর শরীরের যে কোন অঙ্গকে, তখন তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে ইচ্ছেমতো পরিচালনা বা ব্যবহার করতে পারবে। অর্থাৎ তার স্বামীকে, বা স্বামীর শরীরের কোন অঙ্গকে স্বামীর বিনা অনুমতিতে বা তাকে না জানিয়ে বা তাকে অটো ভাবে পরিচালানা করতে পারবে। আবার স্বামী যদি কখনো কোন কাজ করতে না পারে, বা স্বামীর শরীরের কোন অঙ্গ হয়তো ঠিকমতো কাজ করছেনা বা নিস্তেজ হয়ে আছে বা বাত ব্যথা হয়েছে বা জ্বর হয়েছে বা যে কোন প্রতিবন্ধক বা যে কোন রোগ হয়েছে বা কোথাও আঘাত খেয়েছে বা পুষ্টির অভাবে দূর্বল বা একেবারেই হয়তো ক্ষীণ হয়ে আছে, অথবা হয়তো স্বামীর শক্তি বা শিক্ষা বা বুদ্ধিতে বা প্রজ্ঞা বা কৌশলে কুলাচ্ছে না, তখন স্বামীর অনুমতিতে বা বিনা অনুমতিতে তার স্ত্রী গণ ও দাসী গণ মিলে, অথবা অন্যকোন চিকিৎসক জিন বা পরী দিয়ে, তাদের স্বামী বা মালিকের শরীর, মন ও ব্রেন অথবা শরীরের যে কোন অঙ্গে প্রবেশ করে তাকে থেরাপি দিয়ে বা নিজেদের থেকে শক্তি দিয়ে বা প্রয়োজনীয় ফোর্স দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বা অটো ভাবে সাধ্যমত বা প্রয়োজন মতো তাকে পরিচালানা বা কার্জ সম্পাদন করতে পারবে বা তাকে সুস্থ করে তুলতে পারবে। কিন্তুু আল্লাহু তা’য়ালা ও তাঁর রাসূল (সাঃ) রাজী নাই এ রকম কোন কাজে, কনে তাঁর স্বামীর শরীরে আসর করে বা ভর করে থাকতে পারবে না বা তার শরীর. ‍মন ও ব্রেনকে তার ইচ্ছে মতো পরিচালনা করে কোন কাজ সম্পাদন করতে পারবে না এবং এ ধরনের কাজের চিন্তাও তখন কনে করতে পারবে না বা এ ধরনের কাজে তার স্বামীর শরীরের ধারে কাছেও সে যেতে পারবে না।  

কনের জন্যে বর বা তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে এক মহূর্তের জন্যেও তার স্বামীকে ছেড়ে সে শুধু তার নিজের ইচ্ছায় কোথাও যেতে পারবে না। স্বইচ্ছায় একান্ত প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে অবশ্যই তার স্বামীর অনুমতি নিয়ে এরপর যেতে হবে এবং তার স্বামী জানতে পারেনা বা তার স্বামী জানার সক্ষমতা রাখে না, এ রকম কোন স্থানে যাওয়া কনের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে কোন প্রয়োজনে দূরের কোথাও যেতে স্বামী হুকুম করলে, তখন তাকে যেতে হবে এবং তখন শুধু ঐ কাজটি করেই তকে দ্রুত তার স্বামীকে আদেশিত কাজটি বুঝিয়ে দিতে হবে। স্বামীর মনে কষ্ট যাবে, এ রকম কোন কাজ যত ভালোই হোক না কেন, এমনকি পৃথিবীর সবগুলো মানুষ বা জিনের জন্যেও যদি ভালোও হয়, তথাপি কনে এ ধরনের কোন কাজ করতে পারবে না।

ধর্মীয় প্রয়োজন বা নিজেদের নিরাপত্তাজনীত কোন প্রয়োজন বা মজলুম মানবতার প্রয়োজনে অথবা মানবতার উন্নয়নে কনেকে বা স্ত্রীকে অন্য কোন মানুষ বা অন্য কোন জিন বা অন্য কোন জীব বা জড়ের শরীরে বা তার মন ও ব্রেনে যদি প্রবেশের প্রয়োজন পড়ে, তবে উদ্দেশ্য ও কাজটি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল সে স্বামীর বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারবে। কিন্তু এসব কাজেও যদি স্বামী নিষেধ করে তাহলে কনে বা ‍ স্ত্রী অন্য কারো শরীরে বা তার মন ও ব্রেনে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু কাজটি যদি আল্লাহু তা’য়ালা বা তাঁর রাসূল (সাঃ) বা তাঁর স্বামীর হক বিষয়ক প্রয়োজনে হয় বা দ্বীনের অন্য কোন প্রয়োজনে হয়, যা হয়তো তার স্বামীর বুঝে আসতেছেনা বা আসবে না; যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে তখন বর বা তার স্বামীর বিনা অনুমতিতেও কনে পৃথিবীর যে কোন স্থানের যে কোন মানুষ বা যে কোন জিন বা যে কোন জীব বা জড়ের শরীর, মন ও ব্রেনে প্রবেশ করতে পারবে।    

কিন্তু কারো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থাকলে বা কেউ বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবে মনে হলে তখন সে নিজে যেমন পারবে না; এবং এ সব কাজে তার স্বামী অনুমতি দিলেও পারবে না। তবে সকল ক্ষেত্রে আল্লাতু তা’য়ালা এবং তার রাসূল (সাঃ), বা তাদের নিজেদের হক সম্পর্কিত বিষয় হলে তখন পারবে।

তবে দৃশ্যমান বা অদৃৃৃৃৃশ্যমান যে কোন ভাবে স্বামীর অনুমতি থাকুক বা না থাকুক, কোন অবস্থাতেই কারো সতর দেখা যাবে না বা সতর দেখা যাবে বা দেখতে হবে, এ রকম ভাবে কারো শরীরে প্রবেশ করা যাবে না এবং সর্বাবস্থায় ইসলামের পর্দার বিধান মেনে চলতে হবে।

এবং স্বামীকে না জানিয়ে স্ত্রী কখনোই উধাও হয়ে যেতে পারবে না বা হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারবে না। স্বামী বুঝতে পারে না এ রকম অন্যকোন রূপ ধারন করতে বা স্বামী বা অন্যান্য মানুষেরা ভয় পাবে, বিনা কারণে বা শুধু শুধু ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এ রকম কোন রূপ বা কোন হিংস্র পশু-পাখি বা সাপ বা এ ধরনের কোন জড় বা জীব পদার্থের রূপ ধারন করতে পারবে না। 

উপরোক্ত শর্ত সমূহ যদি কনে অমান্য করে তবে বর কনেকে, উপযুক্ত বা মৃদু শারীরিক বা মানসিক শাস্তি প্রদান করতে পারবে বা একেবারেই অবাধ্য হলে তখন নিয়মানুযায়ী তাকে তালাক দিতে পারবে। 

১৪. পিতার নামঃ 

১৫. মাতার নামঃ 

১৬. স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ গোবিন্দপুর, পোঃ হাজির বাজার, উপজেলাঃ ফেনী সদর, জেলাঃ ফেনী, বাংলাদেশ। (বরের একই ঠিকানা। যেহেতু কনে বর্তমানেও বসবাস করছে বরের সাথেই, বরের শরীরেই)

১৭. বর্তমান ঠিকানাঃ ঐ

১৮. এ চুক্তিপত্র বা নিকাহনামা বা বিবাহের তারিখঃ ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি, ২০ আগস্ট ২০২৬ ইং

১৯. দেনমোহরের পরিমাণ: ১ কোটি টাকা

২০. সাক্ষী (নাম, তারিখ ও স্বাক্ষর)ঃ 

২১. সাক্ষী (নাম, তারিখ  স্বাক্ষর)ঃ 

২২. সাক্ষী ৩ (নাম, তারিখ  স্বাক্ষর)ঃ

২৩. সাক্ষী ৪ (নাম, তারিখ  স্বাক্ষর)ঃ

২৪. বর ও কনের উভয়ের ঘোষণা পত্র এবং তাদের স্বাক্ষরঃ

আমরা উভয়ে উক্ত নিকাহনামা বা আমাদের বিয়ের উপরোক্ত চুক্তিনামা,  চুক্তির সকল শর্ত সম্পূর্ণ মেনে নিয়ে, এবং চুক্তি অনুযায়ী স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে স্বাধীন ভাবে, সুস্থ মস্তিষ্কে ও কারো দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে বা কোন ধরনের শক্তি দ্বারা তাড়িত না হয়ে আমাদের পরষ্পর পরষ্পরকে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে কবুল করলাম। এবং উপরোক্ত চারজন স্বাক্ষী ও উপস্থিত প্রায় ৫০ জন গণ্য-মান্য ব্যক্তির সামনে কাজীর মুখে মুখে পাঠের মাধ্যমে, আমাদের মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান করলাম ‍ও এর লিখিত স্বীকৃতি হিসেবে নিম্নে আমরা উভয়ে আমাদের নিজ হাতে স্বাক্ষর প্রদান করলাম।

(ক) বর হিসেবে স্বামীর স্বাক্ষরঃ


(খ) কনে হিসেবে স্ত্রীর স্বাক্ষরঃ 


২৫. উক্ত চুক্তিপত্রের লিখকের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষরঃ হযরত মাওলানা বেলায়েত হোসাইন (দা.বা.), সহ সুপার, উত্তর চাঁদপুর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) মাদরাসা, উত্তর চাঁদপুর, লেমুয়া, ফেনী সদর, ফেনী, বাংলাদেশ। এবং 

খতিব, বাগের হাট জামে মসজিদ, বাগের হাট, উত্তর ধলিয়া, ফেনী সদর, ফেনী। 

 লিখকের স্বাক্ষরঃ


২৬. কাজী ও খতিব সাহেবের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষরঃ  হযরত মাওলানা আইয়ুব আলী (দা.বা.), সুপার, উত্তর চাঁদপুর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহঃ) মাদরাসা, উত্তর চাঁদপুর, লেমুয়া, ফেনী সদর, ফেনী, বাংলাদেশ। এবং 

খতিব, হাজীর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গোবিন্দপুর, হাজীর বাজার, ফেনী সদর, ফেনী। 

কাজী ও খতিব সাহেবের স্বাক্ষরঃ


২৭. উক্ত চুক্তিনামায় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পঃ নিকাহনামার এ চুক্তিপত্রটি বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষায় মোট ২ কপি (১কপি বাংলা এবং ১ কপি ইংরেজী) আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই বাংলায় চুক্তিনামার জন্য ২০০০/- (দুই হাজার) টাকার এবং ইংরেজিতে চুক্তিনামার জন্য  ২০০০/- (দুই হাজার) টাকার মোট ৪ (চার হাজার) টাকার সরকারী স্ট্যাম্পের মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি ০০ টাকা করে মোট ০টি স্ট্যাম্পের মধ্যে (১০ পাতা করে ০ পাতা)  উক্ত চুক্তিপত্রটি কম্পিউটার কম্পোজ করে প্রিন্ট করা হয়েছে।

২৮. কাবিননামাঃ যেহেতু জিনের সাথে মানুষের বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সরকারি কোন নিয়ম এখন পর্যন্ত নেই, তাই উপর্যুক্ত চুক্তিনামার টেক্সট ফাইল এবং এ চুক্তিনামা অনুযায়ী সম্পন্নকৃত বিয়ের আকদ অনুষ্ঠান ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানের ভিডিও ফাইল আমাদের বিয়ের কাবিননামা হিসেবে ধর্তব্য হবে বলে, এ বিয়ের কাজী জনাব হযরত মাওলানা আইয়ুব আলী (দা.বা.) সাহেব নির্ধারণ করেছেন। 

২৯. বর ও কনেকে প্রদানকৃত নথিপত্রঃ উক্ত নিকাহনামা বা চুক্তিনামা দলিলের মূল কপি (বাংলা ও ইংরেজী উভয়) বরের নিকট সংরক্ষিত থাকবে। এবং কনেকে এর একটি ফটোকপি এ বিয়ের কাজী কর্তৃক সত্যায়িত করে প্রদান করা হবে।

৩০. ফেনী সদর-২ আসনের সংসদ সদস্যের প্রত্যয়ন ও তাঁর স্বাক্ষরঃ আমি ফেনী সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জনাব অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, The Grand Sultan Convention Feni, এ প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত জিনের সাথে মানুষের বিয়ে সম্পর্কিত উক্ত প্রীতি ভোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজকে ধন্য মনে করছি। আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি এ বিয়ের কনে মানুষও হতে পারে এবং হাওয়ায় মিলেয়ে উধাও’ও হয়ে যেতে পারে ও বিভিন্ন ধরনের আকৃতি-প্রকৃতি ‍ধারন করতে পারে। এতে আমি সহজেই বুঝতে পেরেছি এ বিয়ে অনুষ্ঠানের কনে একজন জিন, এবং আমি তাকে মহিলা হিসেবে দেখতে পেয়েছি। শুনতে অবাস্তব মনে হলেও, ঘটনাটি সত্য! জিনের সাথে মানুষের বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, জিন হিসেবে কনের বিভিন্ন আকার-আকৃতিতে প্রকাশিত হওয়া, যা আমি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছি, তা সত্যিই আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি জীন ও মানব, এ নব দম্পতির ভবিষ্যত জীবনের সর্বাঙ্গীন উন্নতি কামনা করি। 

মাননীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর ও সীলমোহরঃ





৩১. ফেনী জেলা প্রশাসকের প্রত্যয়ন ও তাঁর স্বাক্ষরঃ আমি ফেনী জেলার জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার, The Grand Sultan Convention Feni, এ প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত জিনের সাথে মানুষের বিয়ে সম্পর্কিত উক্ত প্রীতি ভোজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজকে ধন্য মনে করছি। আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি এ বিয়ের কনে মানুষও হতে পারে এবং হাওয়ায় মিলেয়ে উধাও’ও হয়ে যেতে পারে ও বিভিন্ন ধরনের আকৃতি-প্রকৃতি ‍ধারন করতে পারে। এতে আমি সহজেই বুঝতে পেরেছি এ বিয়ে অনুষ্ঠানের কনে একজন জিন, এবং আমি তাকে মহিলা হিসেবে দেখতে পেয়েছি। শুনতে অবাস্তব মনে হলেও, ঘটনাটি সত্য! জিনের সাথে মানুষের বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, জিন হিসেবে কনের বিভিন্ন আকার-আকৃতিতে প্রকাশিত হওয়া, যা আমি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছি, তা সত্যিই আমার কাছে ভালো লেগেছে। আমি জীন ও মানব, এ নব দম্পতির ভবিষ্যত জীবনের সর্বাঙ্গীন উন্নতি কামনা করি

মাননীয় জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর ও সীলমোহরঃ



৩২. উক্ত নিকাহনামা চুক্তিপত্রের লিখিত ভাষা ও বিচার্য ভাষাঃ

উক্ত বিবাহ চুক্তিনামা দলিলের মূল ভাষা হবে বাংলা। ‍যদিও এ নিকাহনামা দলিলটির একটি কপি ইংরেজি ভাষাতেও করা হবে, তথাপি এ চুক্তিপত্রের কোথাও কোন পক্ষের বা সরকারী, বেসরকারী বা আন্তর্জাতিক ভাবে বা যে কারো কোন কিছু নিয়ে যদি বুঝতে সমস্যা হয়, বা অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হয় বা ভূল বোঝা-বুঝির সৃষ্টি হয়, তাহলে তখন শুধুমাত্র এ দলিলের মূল কপি বাংলা ভাষায় লিখিত দলিল দিয়েই এর সমাধান করতে হবে বা সমাধান করা হবে। 

৩৩. উক্ত নিকাহনামা চুক্তিপত্রের গুগল লোকেশানঃ

          https://arifstory1.blogspot.com/ 

বি.দ্র. যদি সরকার, জিন ও মানুষের পারষ্পরিক বিয়ে বন্ধন রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম-কানুন চালু করে, এবং সে অনুযায়ী উপরোক্ত এ বিয়েকে সরকারী ভাবে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য হুকুম করে, তবে এ বিয়ের বরের দায়িত্বে এবং বর সরকারের সমস্ত খরচ বহন করে, তা পালন করতে বাধ্য থাকবে।

-ঃচুক্তিপত্র দলিল সমাপ্তঃ-


অতএব, কোরআন-হাদীস অনুযায়ী উপরোক্ত নিকাহ্ চুক্তিপত্র দলিল এবং এ বিয়ের সমস্ত নিয়ম-কানুন পর্যালোচনা করে, উক্ত বিয়েকে, মানে মানুষের সাথে জিন বা জিনের সাথে মানুষের বিয়েকে জায়েজ ফতোয়া প্রদান করার জন্য মহোদয়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি।


বিনীত নিবেদক, 

আরিফ উল্যাহ চৌধুরী,

গ্রামঃ গোবিন্দপুর, পোঃ হাজীর বাজার,

উপজেলাঃ ফেনী সদর, জেলাঃ ফেনী,

বাংলাদেশ।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ