Ticker

6/recent/ticker-posts

সৈয়দ জিন আরিফের শরীরে জিনের জন্ম

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম 

জিনের জন্ম 

পোস্টটির প্রকাশ কালঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্! 

"সৈয়দ জিন আরিফের শরীরে জিন হিসেবে আমার জন্ম"

মানুষ হিসেবে, আমি কে এবং কী আমার পরিচয়, এসব সম্পর্কে এখন থেকে আর কিছু আমি লিখতে চাই না! 

তবে আজও এটুকু জানাচ্ছি যে, আমার মনে হয়, আমার শরীরে এবং আমার সাথে, যে একজন মহিলা জিন রয়েছে, তার নেতৃত্বে তারা একদল মোমেনা মুসলিম মহিলা জিন! 

সে বা তারা আসলে একজন, না সর্বমোট কতজন, এ বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে আগমনের আগ পর্যন্ত একেবারে নিশ্চিত ভাবে ক্লিয়ার করে বলা আমার দ্বারা সম্ভব নয়!

আমার বা আমাদের সম্পর্কে যদি এখনো আপনাদের তেমন কিছু জানা না থাকে, তবে আপনারা আমার পূর্বোক্ত পোস্ট সমূহ পড়ুন!

ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা এখন থেকে যে বিষয়ে লিখতে চাই সরাসরি শুধু সে বিষয়েই লিখবো!

আমার পরিচিত আপনাদের সকলের ইতিমধ্যে বিশ্বাস হয়েছে যে আমার শরীরে এবং আমার সাথে মহিলা জিন বসবাস করে!

আজ আমি বলতে চাই, আমার শরীরে এ জিনের জন্ম কিভাবে হয়েছে! বা কোথা থেকে এলো এ জিন! 

এটি কোন লজ্জার বিষয় নয় যে, পুরুষ এবং নারীর মিলনের ফলে মানুষ এবং জিন, এভাবে সকল জীব বা প্রাণীরই জন্ম হয়! 

সূরা বনী ইসরাইলের ৬৪ নাম্বার আয়াতে ইবলিশ বা তার অনুসারীদেরকে আল্লাহু তা'আলা বলেন,

১৭ : ৬৪ وَٱسْتَفْزِزْ مَنِ ٱسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِى ٱلْأَمْوَٲلِ وَٱلْأَوْلَـٰدِ وَعِدْهُمْ‌ۚ وَمَا يَعِدُهُمُ ٱلشَّيْطَـٰنُ إِلَّا غُرُورًا 

এ আয়াতে মানুষের সাথে ইবলিশের বা তার অনুসারীদের অংশীদার হওয়ার বিষয়ে, একটি কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে যে, মহান আল্লাহতালা বলছেন,  "যাও, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও"

তাহলে এটি সুস্পষ্ট যে, স্বামী স্ত্রীর সহবাসে ইবলিশ অংশগ্রহণ করতে পারে! যেহেতু ইবলিশকে মানুষের সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হতে মহান আল্লাহু তা'য়ালাই বলেছেন!!

অর্থাৎ সে সুযোগ এবং স্বক্ষমতা আল্লাহু তা'য়ালা তাকে দিয়েছেন!!

এখন কথা হচ্ছে কখন ইবলিশ বা তার অনুসারীরা স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে!? বা করার সুযোগ থাকবে!?

এক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এর একটি হাদীস উল্লেখ করা যায়!

হাদীসটি এর সনদ সহ নিম্নে উল্লেখ করছি, 

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ: بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا

অর্থ:

“তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করে, তখন যদি বলে: ‘বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন’, অতঃপর তাদের সেই মিলনে কোনো সন্তান নির্ধারিত হলে, শয়তান কখনো তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।”

— সহীহ আল-বুখারী ৬৩৮৮ 

একই হাদীস সহীহ মুসলিম ১৪৩৪a-তেও রয়েছে।

তাহলে ইহা স্পষ্ট যে, যদি সহবাসের আগে উপরে উল্লেখিত এ দোয়াটি পাঠ করা হয়, তাহলে এই সহবাসে যদি কোন সন্তান পয়দা হয়, তবে ওই সন্তানকে, ইবলিশ বা তার সহযোগীদের থেকে হেফাজতে রাখেন মহান আল্লাহতালা!

কিন্তু এবার চিন্তা করুন, যদি দোয়া পাঠ করা না হয় তাহলে কি হবে!? তার মানে, এ সহবাস দ্বারা জন্মিত সন্তানের বিষয়ে আল্লাহু তা'য়ালার  হেফাজতের কোন গ্যারান্টি মহান আল্লাহতালা দেননি! 

অর্থাৎ যুক্তি বলে এটা নিশ্চিত যে, যে সহবাসে আল্লাহু তা'য়ালার নামে আরম্ভ করছি, এ কথা বলা হয় নাই,  অথবা উপরোক্ত নির্দিষ্ট দোয়াটি পড়া হয় নাই,  বা অন্তত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বলে আরম্ভ করা হয় নাই; সে সহবাসে, শয়তান অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকে এবং কোরআনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী ঐ সন্তান-সন্ততির সাথে ইবলিশ বা তার সহযোগীরা থাকতে পারে! 

এটি উপরোক্ত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের যুক্তিবলে সাব্যস্তকৃত!!

অতএব উপরে উল্লেখিত যুক্তি ও সূত্রের আলোকে আমি জনাব আরিফ সাহেবের সহোদর জীন বোন, অর্থাৎ আমরা একই মায়ের সন্তান! আমরা পরস্পর ভাই বোন! মানে মানুষ হিসেবে আমি ভাই, এবং জিন হিসেবে  আমি বোন!!

অর্থাৎ একই শরীরে আমরা দুজন! 

একজন মানুষ, একজন জিন!! 

তার মানে  আমরা মহান আল্লাহু তা'য়ালার এক বিস্ময়কর ও আনকমন সৃষ্টি!!

এখন আপনারা হয়তো বলতে পারেন, মানব সৃষ্টির পর থেকে আজ এত হাজার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে, আজ পর্যন্ত যা কোন মানুষ দেখেনি, বুঝতে পারেনি, সে অবিশ্বাস্য জন্ম এখন কিভাবে হল!?

আসলে মানব বা জিনের জন্মের বিষয়ে কারও কোন হাত নেই! এটি একমাত্র আল্লাহু তা'য়ালাই জানেন কখন তিনি তাঁর সৃষ্টি দুনিয়াতে পাঠাবেন! 

বিষয়টি আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন যে, অনেক দম্পতি অনেক চেষ্টা তদবির করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারে না! 

তিনি কখন কাকে, কোন্ মা বাবার গর্ভে পাঠাবেন, এটা একমাত্র তাঁরই কুদরত!! 

এখানে মানুষের বলার বা মানুষের  চিন্তার বা মানুষ সবকিছু বুঝতে পারার  কিছুই নেই!!

এছাড়া আপনারা আবার  বলতে পারেন, মানব স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে মুমিন জিন অংশগ্রহণ করার প্রশ্নই উঠে না! 

তাহলে নিশ্চয়ই আমার বাবা কাফের! সে সূত্রে আমিও কাফের!? 

জ্বি, আমি অবশ্যই কাফের ছিলাম! শয়তান জিন ছিলাম! 

জনাব আরিফ সাহেবের কষ্ট ও চরিত্রের প্রভাবে আমি মুসলিম হয়ে গেছি! এবং পরবর্তীতে আমি তার মুখে মুখে  কালিমাও পড়েছি!!

এখন আপনারা আবার বলতে পারেন যে, বুঝলাম,  আপনি না হয় মুসলিম জিন, কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি যে, আপনার সাথে, মানে জনাব আরিফ সাহেবের সাথে রয়েছে হয়তো আরও অসংখ্য  জিন! 

তাহলে এতগুলো জিন আপনারা সবাই একসাথ হলেন কিভাবে?

দেখুন, ইতিমধ্যে আমি অসহায় মানব শিশু ও মানব নারীদের বিষয়ে লেখা আহ্বান করেছি!

যাদের দুনিয়াতে কেহ নাই, যাদেরকে জালিমগণ চরম অত্যাচারে নিমজ্জিত করে যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট দিচ্ছে, এবং এভাবে আমি মেয়ে শিশুদেরকে আমার হেফাজতে নিয়ে আসার একটা প্ল্যান আমি করেছি! 

সে সাথে আমি যারা ভবঘুরে অসহায় পাগলী বা মানসিক রোগী নারী; যারা রাস্তায়, বাজারে, বিভিন্ন স্থানে, বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে, পরিচয়হীন, ঠিকানাহীন, জ্ঞান-বুদ্ধিহীন লাওয়ারিশ ভাবে পড়ে আছে,  যাদের দুনিয়ায় কেহ নাই; এ জাতীয় মেয়েদের বিষয়ে আমি লিখা আহবান করেছি! 

আপনারা নিম্নের লিঙ্কে ক্লিক করে এবং প্রবন্ধটি পড়ে দেখতে পারেন আমি কিভাবে শিশুদেরকে আমার হেফাজতে নিয়ে আসতে চেয়েছি!

https://savewoman1.blogspot.com/2026/08/blog-post.html?m=1


এখন  আমার সাথে যেসব জিন সদস্য রয়েছে তাদেরকে আমি উপরোক্ত প্রবন্ধে যেভাবে মানব মেয়ে শিশুদেরকে  আমাদের হেফাজতে নিয়ে আসতে চেয়েছি, ঠিক সে একইভাবে আমার সাথে থাকা আমার সহচরী, আমার বান্ধবী, এবং আমার প্রাণের সাথী, এ জিন বান্ধবীদেরকেও আমি এভাবেই আমার হেফাজতে নিয়ে এসেছি!

তারমানে, পবিত্র কোরআনে যে ডান হাতের মালিকানার কথা বলা হয়েছে, আমি নিজকে তাদের এ রূপ মালিক হিসেবে বিবেচনা করছি! 

এছাড়া আমাদের মধ্যে আরও 15 জন নেতৃস্থানীয় রয়েছি, যাদের প্রত্যেকেই আমার মত কাফের জিন ছিলাম! 

কিন্তু জিন সমাজে  অবহেলিত, নির্যাতিত এবং অত্যাচারিত ও জুলুমের শিকার হতে হতে আমরা এক পর্যায়ে মুসলিম হয়েছি,  এবং আমার প্রচেষ্টায়,  আমরা পরস্পর একত্রিত হয়েছি!  

পরবর্তীতে অল্প কিছুদিন আগে আমরা জনাব আরিফ সাহেবকে আসর করা অবস্থায়, তার নিকট তার মুখে মুখে আমরা সবাই  কালিমাও পড়েছি!বর্তমানে আমরা এ ১৫ জন জনাব আরিফ সাহেবের সাথে একসাথে অবস্থান করছি! এবং একটি সাংগঠনিক   নেটওয়ার্ক স্থাপন করে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করছি!!

আমাদের এ ১৫ জনের কারো কোন মালিক বা অভিভাবক নাই! 

কারণ মুসলিম হওয়ার পর আমাদের মা-বাবার কাছে, আমাদের পরিবারের কাছে, আমাদের সমাজের কাছে, আমাদের আর কোন পরিচয় নেই! সেখানে আমাদের সমস্ত পরিচয় বিলীন  করে এখন আমরা মুসলিম হিসেবে জনাব আরিফ সাহেবের সাথেই আছি! সেখানে আমাদের কোনো মালিক বা অভিভাবক আর অবশিষ্ট নাই! 

এখন আমরা স্বেচ্ছায় নিজ থেকে জনাব সৈয়দ জিন  আরিফ সাহেবকে, পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত তার ডান হাতের মালিকানায় গ্রহণ করার জন্য আমরা তার নিকট আবেদন  জানিয়েছি!  

এছাড়া উপরে উল্লেখিত প্রবন্ধ অনুযায়ী,  আমরা যেসব শিশু ও নারীকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে এসেছি; অর্থাৎ আমরা ডানহাতের মালিক বলে নিজেরা যাদের দায়িত্ব নিয়েছি, আমরা তাদের কেও, জনাব সৈয়দ জিন আরিফের নিকট তার ডান হাতের মালিকানায় হস্তান্তর করার প্রস্তাব পেশ করেছি!

এতে তিনি রাজি হয়ে, আমাদেরকে মানবাকৃতিতে ও আমাদের দ্বারা সম্ভব অন্যান্য  আকৃতিতে, এ পৃথিবীবাসীর  কল্যাণের উদ্দেশ্যে  তার নিকট ওপেন হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন!

আমরা তাতে রাজি ও খুশি হয়েছি! এবং আমাদের সাথে ও তার সাথে আমাদের চুক্তির অন্যান্য দিক ওকে হলে, তাহলে ইনশা'আল্লাহু তা'য়ালা খুব সহসা আমরা ওপেন হবো! 

এখানে যেহেতু পবিত্র কোরআন ও হাদিসের মধ্যে ডানহাতের মালিকানার ক্ষেত্র বা পরিসীমা নির্দিষ্ট করা হয় নাই বা সীমাবদ্ধ করা হয় নাই বা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যে ৪টি ক্যাটাগরি যেমন, যুদ্ধলব্ধ দাসী, ক্রয় ক্রীতদাসী, উপহার বা দানকৃত ক্রীতদাসী, এবং   ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত দাসী, উদাহরণস্বরূ তাঁর জীবদ্দশায় তিনি দেখিয়েছেন, এ চারটি ক্যাটাগরি ব্যতীত আর কাউকে, এ ডান হাতের মালিকানায় গ্রহণ করা যাবে না, এ রকম কোন আইন তিনি বলে যান নাই, বা এ ধরনের কোন আইন পবিত্র কুরআন কর্তৃক ও হাদীস নির্দিষ্ট করা হয় নাই,  বা উল্লেখ করা হয় নাই; তাহলে আমরা মনে করি আমাদের সবাইকে জনাব আরিফ সাহেব, তার ডান হাতের মালিকানায় গ্রহণ করতে ইসলামী শরীয়তে কোনো বাধা-নিষেধ নাই! 

তার মানে তিনি নির্দ্বিধায় আমাদেরকে তার ডান হাতের মালিকানায় বা মালিক হিসেবে আমাদেরকে গ্রহণ করতে পারেন!! 

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, জনাব সৈয়দ জিন আরিফ সাহেবের শরীরে জিন হিসেবে আমার জন্ম কিভাবে এবং আমরা এতগুলো মহিলা জিন তাকে আসর করে ও তার সাথে কিভাবে রয়েছি! 

আশা করি বিষয়টি সকলে বুঝতে পারছেন!

উপরোক্ত তথ্য আমার শরীরে জিন বা জিনদের আছর করা অবস্থায় লিখা বিধায়, এসব তথ্য যদি নির্ভূল না হয়, তাই  হয়তো কোন  ভুল থাকতেও পারে;  তাই এটিকে চূড়ান্ত না ধরে,  ইনশাআল্লাহু তা'য়ালা জিন যখন মানবাকৃতিতে  আসবে বা ওপেন হবে, তখন ফাইনালি এই প্রবন্ধের সত্যায়ন করা হবে!!

ধন্যবাদ সবাইকে! সবাই ভাল থাকুন! 


 


ণঢ 

Post a Comment

0 Comments